প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jan 15, 2026
৮০ আসনে অনড় ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের শরিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—কমপক্ষে ৮০টি সংসদীয় আসন না পেলে জোটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এত সংখ্যক আসন ছাড় দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয়।
এ পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠক করে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে গভীর রাতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন।
জোটের একাধিক শরিক দল ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—জোটে থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। যদিও চরমোনাই পীরের দল জোট ছাড়লেও বাকি সব শরিক দল জোটে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে রূপ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকের পর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
খেলাফত মজলিসের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জোটের অন্য শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি জানান, নতুন করে কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তবে এতে কোনো বড় সমস্যা হবে না।
জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির অন্তর্ভুক্তিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি দলটি। একপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন দাবি করে, তাদের অন্তত ১৪৩টি আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো সাংগঠনিক সমর্থন রয়েছে এবং তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনও দাবি করে।
প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পাশাপাশি ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু দলটি ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। অন্য শরিকরা চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
জামায়াতের নেতারা জানান, ৮০ আসন ছাড়লে শুধু সম্ভাবনাময় আসন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিই নয়, বরং অন্য শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত আসন দাবির পথ খুলে যেত। সে কারণে এই দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
সবশেষে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে সমঝোতার আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে ২৬৬টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করতে হবে।
সূত্র: আমার দেশ